সিগারেটস আফটার সেক্স: দু’টি গান ~ ইমরান ফিরদাউস

[সিগারেটস আফটার সেক্স- মার্কিন মুল্লুকের টেক্সাসনিবাসী অ্যাম্বিয়েন্ট পপ ব্যান্ড। তারা সুবিদিত তাদের মিনিমালিস্টক, গগনাচারী, স্বপ্নালু ভাবের কথকতামূলক গানের জন্য। জীবনের রোমান্টিক টানাপোড়েন, বিষাদ, দুঃখভারাতুর নিমগ্ন চৈতন্য তাদের গানের অন্যতম দিক। গ্রেগ গনযালেযের উদ্যোগে গঠিত এই দলের গান ইউটিউবের বদৌলতে অভিষেক অ্যালবাম প্রকাশের আগেই দর্শক-স্রোতার নজর কাড়তে সক্ষম হয়। এই ডিজিটাল অ্যাম্নেশিয়ার কালে সিগারেটস আফটার সেক্স- বলে […]

Lonely Day বাই সোআড~ তরজমা: ইমরান ফিরদাউস

ভূমিকা শিল্প-বিপ্লবের পরের দিন টা ক্যামন যেন ফ্যালেফ্যালে। গতকালও তো হাঙ্গামা ছিল, জোর-জবরদস্তি ছিল। টুইন টাওয়ার ছিল, আকাশ থেকে উড়ে আসা ছোট্ট একটা প্লেন ছিল। পথিক নবীর এক্টা নদী ছিল। কিন্তুক, নদীর নাম জিগানোর মতন কেউ ছিল না। এত ছিল্‌ ছিল্‌ ছিলা ছিল এর মধ্যে থাইকাও, একটা কী যেন থেমে ছিল। দাঁতের কোণায় ঝুলে থাকে, টুথপিকের নাগালের বাইরে থাকা খাদ্য-কণার মত। এইরকম দিনটারে মোনালিসা নাম দিল লোনলি ডে। তাজমহলের মত একা। পানির নিচে রাস্তা ভালোর মত তাজা। অবাধ নির্বাচনের মত সুষ্ঠু এক্টা দিন। এমন দিনে ফেরেশ্তাদের শহরে বসে ড্যারন মালাকিয়েন লিখে ফেলে লোনলি ডে  গানটা। গীতে সুরারোপ করেন সিস্টেম অফ আ ডাউনের মেম্বারবৃন্দ। রটনা আছে- মালাকিয়েন গানটা লিখেছিলো অগ্নিকাণ্ডে নাই হয়ে যাওয়া মায়ের পেটের ভাইয়ের বিগত স্মৃতির উপমায় । যে কারণে, গানের ছায়াছন্দে বার বার দেখা গিয়ে থাকবে আগুনের লেলিহান শিখা, জমাট বাঁধা কালো ধোঁয়া। সোআড এক অনমনীয় শ্রদ্ধা অর্জন করেছে দুষ্টু লোকের রাজনীতি, গুণহত্যা, যুদ্ধবাজ সরকার ও রাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে। এই গানের মধ্যেও তার অন্যথা ঘটে নাই। এই গানের মাআরেফতি বিন্দু টা হলো যে, ব্যক্তি মানুষ ভেদে এটি পুঁজিবাদ প্রযোজিত কিছু ভালো লাগে না‘র স্মারক হিসেবে কানে বাজতে৩ পারে, আবার প্রান্তিক মানুষের ঘাঁড়ে জোর করে গুঁজে দেওয়া দায়ের জের হিসেবেও শ্রবণ করা  যেতে পারে গানটা। আবেগী হার্ডকোর রক এর গীতবাদ্যের তোড়ায় বাঁধা, পোস্ট গ্রানজের লিরিক্যাল চরিত্র নিয়ে সৃজিত হওয়া- হার্ড রক ব্যালাডের এই গান বলে যায় নিঃসঙ্গ দিনের মত স্লো-পয়জনের জবানবন্দী। বলে- প্রিয় প্রিয়-এর হাত ধরে মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাওয়ার বিষণ্নতার কথা, বলে উদ্বিগ্ন সত্ব্বার দেয়াল পিঠ ঠেকিয়ে লড়াইয়ের নির্মিলীত গল্প। ২০০৭ সনে আলো-বাতাস লাভ করা এ গানের প্রডিওসার ছিলেন ওস্তাদ লোক রিক রুবেন এবং আবারো ড্যারন মালাকিয়েন। যাইহোক, মনের চোরা পকেটে আলতো করে রাখা, মেনি বিড়ালের সঙ্গ–সুখ পাওয়া নিঃসঙ্গ দিনটারে সরকারী প্রেস্ক্রিপশনের হাহাকারে উদযাপন করবেন; নাকি সোম আর বৃহষ্পতিবারের মাঝখানে একটা অর্ধদিবস রূপে সোনা-লাল-সিস্টেমের সানডে-মানডে ক্লোজের উপলক্ষ হিসেবে সেলিব্রেট করবেন- সে রায় আপনার।।   নিদারুণ একলাটি বার বুক পকেট জুড়ে আমার এমন নিঃসঙ্গতম বার জিন্দেগি আর একটাও হয় না। এমন একলাটি বার নিষিদ্ধ করা উচিত এ এমনই একাকী বার যা বরদাশত করা জুলুম।। এমন একলাটি দিনের কোন কোন কারণ নেই।। এমন সব নিঃসঙ্গ দিনের স্মৃতি মনেও রাখতে চাই […]

Fix You বাই কোল্ডপ্লে ~ তরজমা: ইমরান ফিরদাউস

শানে নুযুল কোল্ড প্লে ২০০৪ সনে ফিক্স ইউ গানটি লানডানে বসে রেকর্ড করে এক্স অ্যান্ড ওয়াই গীতমালার জন্য। ২০০৫ সনে গীতটি প্রকাশিত হওয়ার পর আজতক শ্রোতাদের মাঝে ব্যান্ডের অন্যতম সিগ্নেচার গানরূপে পরিগণিত হয়ে আসছে। গুরু-গম্ভীর নাদের যাজকীয় পিয়ানোর সুর, বাতাসকে বিমর্ষ করে গেয়ে উঠা ক্রিস মার্টিনের ব্যথাতুর কন্ঠ আর সম্মিলিত প্রয়াসে লিখে ফেলা এই গানটি, রক ব্যালাড […]

আজ কাল পরশুর গল্প ~ ইমরান ফিরদাউস  

বেওয়ারিশ একটা তারিখ এতিম এর মতন তাকায় স্বতঃস্ফূর্ত ক্যালেন্ডারের পানে ক্যালেন্ডারে নাই লাল শুক্রবারের কমতি তারপরও তারিখের নিয়িতিতে জোটে না একটা বিস্বাদ বার এই একক বা দশকের সংখ্যার কৌমার্য  নিয়ে তারিখ এর কাইটা যায় দিন মাস বছর সাতই মার্চ ছাব্বিশে মার্চ ষোলই ডিসেম্বর কত বড় বড় তারিখ কত কত চওড়া তাগো বুকের ছাঁতি বেওয়ারিশ তারিখ ভাবে এ ক্যামন দেশে আইসা পড়লাম শনিবার যায় রবিবার যায় আসে না বন্ধু ভালোবাসে না আমায়। আগামীকাল গতকাল আজকাল তারিখ ভাবে সবাইরে চেনা হয়ে গেছে সব হালা প্রকৃত চুদির ভাই চুইদা কয় স্যরি আপা! **চিত্রকর্ম শিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান / শিরোনাম ঋণস্বীকার মানিক ব্যানার্জী

জহির রায়হান: গুমনাম আত্মার সতীর্থ এর সাথে কথোপকথন ~ ইমরান ফিরদাউস

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান প্রসঙ্গে সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সাথে ইমরান ফিরদাউসের আলাপচারিতা উপক্রমণিকা  জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২?) বাঙলা দেশের সিনেমার অন্যতম জরুরী নাম। সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সংগঠক পরিচিতি ছাপিয়ে যিনি সিনেমা-কারিগর হিসেবে সমধিক পরিচিতি নিয়ে হাজির আছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পরিসরে। সিনেমাকে ব্যবহার করতে শিখেছিলেন অধিকার আদায়ের মাধ্যম হিসেবে। ইমেজের গায়ে ইমেজ গেঁথে […]

অন্তর্গত ক্ষয় ও প্রশংসিত পচন ~ ইমরান ফিরদাউস  

[অতঃপর উৎসর্গ কোন এক পরিবারের আপা-ভাই-বেরাদরদের কর কমলে] একটা সংগঠন এ যোগ দিয়ে ছিলাম কিছু যৌথ বৃষ্টিস্নাত গোধূলির লোভে একটা সংগঠনের আদ্যোপান্তে জড়িয়ে ছিলেম সিনেমা নামক দিবাস্বপ্নের সকাশে কিন্তু সিনেমা এক সিন্ডিকেটবাজী মতি-চোর এক আলেয়ার ফুলের বাহারে চলে পলিটিক্যাল সিস্টেম্বাজী সুস্থ সিনেমার আন্ডার কাভারে অ-সুস্থ মোনাফেকি/হিপোক্রিসি। একদা রকস্টার কাজী নজরুল ইসলাম এরশাদ করেন দিনে দিনে বহু জমিয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ । তথাপি ঋণ করে ঘি খাওয়ার মজায় মজে গেলে খেলাপি ঋণের আর বেইল থাকে না।   দোহাই মিম কার্টেসি: সোনার বাংলা মিম / The Gold’s Bengali Meme ফটো কার্টেসি: সামী আল মেহেদী

চিহ্ন হাতে দাঁড়িয়ে উমবার্তো একা ~ ইমরান ফিরদাউস 

চিহ্নের কারবার দিনে রাতে আলো আঁধারে চোরাচালান হচ্ছে ইশারায় । গুম হয়ে যাওয়া চোখে লেপটে আছে কাঁথামুড়ি দেয়া ভাষা জবুথবু ঠোঁটে লালা হয়ে ঝরে পড়ে কথামালা  । তরল সন্ধ্যায় নগরীর দেয়ালে ওভারেক্সপোজড রোদে লেখা গেরিলা ধারণারা ওঁত পেতে রয় এই নিউক্লিয়ার দুনিয়ায় জবাকুসুমের আলস্যে । ন্যারাটিভের উঠোনে বসে উমবার্তো ভাবে ত্রিমাত্রিক দুনিয়ায় গোলাপের কেন হয় দ্বিমাত্রিক নাম ! চিহ্নের তলাবিহীন ঝুড়ি গলে লা-পাত্তা কালচারাল জ্যামিঙের ব্লু-প্রিন্ট। চিহ্ন দিয়ে ইডিয়টদের শায়েস্তা করার স্বপ্ন দেখা অধ্যাপক এর বিদেহী রুহ মিসরিডিঙয়ের সানগ্লাস চোখে পায়চারি করে যায় চিহ্ন হাতে একা । ।  

আরবান ড্রাগ স্টোর ~ ইমরান ফিরদাউস

সিগারেট আফটার সেক্স এক আরবান ফ্যান্সিনেস ডিপ্রেশন এক মেডিটেশন বিষণ্নতা একটি রোগ সিবা গেইগি’র টিভিসির আগে সোনার বাঙলায় বিষয়টা হ্যাশট্যাগের মর্যাদা পায় নাই বিটিভির পর্দা জুড়ে সিবা গেইগির ওষুধের চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ঐ বিজ্ঞাপনের মায়াবী রকিং চেয়ার কারণ, মানুষ তখন পাত্তা দিতে শিখে উঠেনি মন খারাপের কারণে অফিস কামাই দেয়া যেতে পারে। ঘরে ঘরে […]

এক ঠিকানায় দুই চিঠি ~ ইমরান ফিরদাউস

ভূমিকা ক্রিস কর্নেল আর চেস্টার বেনিংটন। দুই জানি দোস্ত। দুই বিদেহী আত্মা। দুই মাসের দূরত্বে। বিনা নোটিশে। কারণ দর্শানো ছাড়াই, ছাটাই করে দিলেন পৃথিবীকে। বয়সে ছোট-বড় এই মানুষ দুইজন অদ্ভুত গভীর সম্পর্ক লালন করে গেছেন জীবনের আখেরি দিন পর্যন্ত। ক্রিস বা চেস্টার দুইজনই দুই সময়ে মাতোয়াল করেছেন দুই প্রজন্মকে। ক্রিসের মতন চেস্টারও গানে গানে বলতেন- […]

পার্টিসিপেটরি থিয়েটার ~ ইমরান ফিরদাউস

ডাকঘরহীন মেঘের দেশে যাদের যাবার কথা ছিলো তাদের গায়ে অদৃশ্য জামার মত এঁটে ছিলো মায়ের ঘ্রাণ নাকের খাঁজে ছিলো সন্দেহের তীব্র নিঃশ্বাস হাতের রেখায় আঁকা ছিলো রহস্য মোড়া বিদগ্ধতার ইতিহাস চৈত্রের কাফনে ঢাকা চেহারায় ছিলো রুদ্রের নির্লিপ্তি তীর্থযাত্রীর মতন এসেছিলো তারা শরণার্থীর বেশে নিজেদের আবিষ্কার করেছিলো এক উদিত দুঃখের দেশে পাঠিকা ও পাঠক-  উন্নয়ন সন্ত্রাসের অতিষ্ঠ […]

জহির রায়হান: একজন হতে পারতো ঈশ্বরের জন্মদিন ~ ইমরান ফিরদাউস

“আকাশের রঙ বুঝি বারবার বদলায়। কখনো নীল। কখনো হলুদ। কখনো আবার টকটকে লাল। মাঝে মাঝে যখন সাদা কালো মেঘগুলো ইতি-উতি ছড়িয়ে থাকে আর সোনালি সুর্যের আভা ঈষৎ বাঁকা হয়ে সহস্ৰ মেঘের গায়ে লুটিয়ে পড়ে তখন মনে হয়, এর রঙ একটি নয়, অনেক। এখন আকাশের কোন রঙ নেই।” –  শেষ বিকেলের মেয়ে  (১৯৬০) আজ ১৯ আগস্ট […]

কর্নেল কে কেউ না কেউ চিঠি লিখে ~ ইমরান ফিরদাউস

ইন্ট্রো ক্রিস কর্নেল। গ্রাঞ্জ রকমাস্টার। মিউজিক জাহানের জিন্দালাশ। মানুষের বাগানে এক মিথের পাখি। ধ্বংসের দুনিয়ায় নতুন দিনের খোয়াবকামী সত্ত্বা। নেশা করছেন। ছাড়ছেন। বন্ধুর মৃত্যু দেখছেন। শোককে গান বাইনাইছেন। কৃষ্ণবিবররে বানাইছেন সুরের বাগিচার সুর্য্য তারা। পুরোহিত ছিলেন টেম্পল অফ ডগের। অডিওস্লেইভ এই বান্দা কিওবায় গিয়ে বুজুর্গ ক্যাস্ত্রোরে শুনাইছিলেন তারুণ্যের গীতমালা। ফিতার জন্য গান গাইছেন। লিখছেন। সিনেমার […]

মুক্তদৈর্ঘ্যের সন্ধানে- ইমরান ফিরদাউস

১৯৮৮ সনে  বাংলাদেশ তো বটেই ইন্ডিয়ান উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আয়োজিত হয় আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব। আয়োজক ছিলো বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মঞ্চ, ইংরেজিতে দাঁড়ায় বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম। এই মঞ্চ এখনো বর্তমান আছে এবং ক্রিয়াকর্মের হাজিরার ধারায় নিয়মিতভাবে আয়োজন করে যাচ্ছে উৎসবটি। প্রথম সংস্করণে (শিরোনামে) যা ছিল আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব, সেটি সপ্তম সংস্করণে পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক […]

ঠগী জীবনের আয়নায় প্রেমের রেশমী ফাঁস – ইমরান ফিরদাউস

মিডিয়াপ্রবণ মৃদু মানুষের লোক-সংসারে মহাশ্বেতা দেবী ছিলেন,আছেন প্রতিবাদ,প্রতিরোধ আর অনর্গল জিন্দেগির শ্বাশত রিপ্রেজেন্টেশন হয়ে। নিরাপত্তার চাদরে মোড়া নগর ও তার আর্বান নাগরিকরা যখন জীবনের ঘাড়ে চেপে হা-হুতাশ করে বলছেন বড় বেরঙীন আজকাল, পাচ্ছেন না খুঁজে কাছাকাছি কোন রঙ- সেইকালে…একদল মৃত্তিকা-মানুষেরা (রণে)-বনে-জঙ্গলে প্রচণ্ড গর্জনে রাষ্ট্রের ঘন ঘন দামিনী-ভুজঙ্গ-ক্ষত যামিনী-রূপ আঘাতকে ত্যাজ্য করে চালিয়ে যাচ্ছিলো,যাচ্ছে নিজের যাপন-জমি-জীবন […]

লন্ডন ১৯৭১: প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের স্বল্প আলোচিত অধ্যায় – ইমরান ফিরদাউস

“ইতিহাস তাৎপর্যময় বস্তু। ইতিহাস অজানা থাকলে ধরে নেয়া যায় আপনার জন্ম হয়েছে মাত্র গতকাল। আর আপনি যদি গতকালই জন্মে থাকেন…তবে, যে কোন ব্যক্তি আপনাকে যা ইচ্ছে তাই বোঝানোর ক্ষমতা রাখে। কেননা, আপনার যেহেতু আগের ‘ইতিহাস’ নেই, সেহেতু বক্তব্য যাচাইয়ের রাস্তাও আর খোলা নেই।” ~ হাওয়ার্ড জিন,  মার্কিন ইতিহাসবিদ,সমাজ সমালোচক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বয়ানে রাজনৈতিক […]

হৃদয়ে তাঁর সভা জমুক – ইমরান ফিরদাউস

ঋত্বিক। বাংলা সিনেমার মাস্তান।। আজ সারাদিন তাঁর জন্মদিন। বাংলা সিনেমা মানে ছবি করা শুরু করছিলেন কারণ ছবি লোকে দেখে। আইরনি হইলো, তাঁর পয়লা সিনেমাটা পাবলিক রিলিজ পায় মৃত্যুর বছর দেড়েক বাদে। লেখক, নাট্যকমী, রাজনৈতিক কর্মী ঋত্বিক কুমার প্রকাশ্যে কইতেন সিনেমার চেয়ে বেটার অপশন পেলে সিনেমা করা ছেড়ে দেবেন নির্দ্বিধায়। যদিও, জীবনের শেষ অবধি সিনেমা তাঁকে […]

নিঃসঙ্গ রূপবতী কন্যার মন

ভূমিকা ও ভাষান্তর: ইমরান ফিরদাউস মোনিকা আনা মারিয়া বেলুচি (জ.১৯৬৪)। পেশাগত জীবনে পরিচিত মোনিকা বেলুচি নামে। ফ্যাশন মডেল ও পারফরমার। তের বছর বয়স থেকে মডেলিং করছেন। ব্রিটিশ চর জেমস বন্ডের সঙ্গী হয়েছেন এস্পেকটার (২০১৫) সিনেমায়। অনিন্দ্য সৌন্দর্যের অধিকারী মোনিকার রূপকলাকে স্থির-ক্যামেরায় বন্দী করেছেন হেলমুট নিউটন, রিচার্ড অ্যাভেডন, ব্রুস ওয়েবার থেকে শুরু করে অনেক কুতুব আলোকচিত্রী। […]

বব মার্লে: শেষ সাক্ষাৎকার

সাক্ষাতকার নিয়েছেন অনিতা ওয়াটার্স/ ভাব-ভাষান্তর: ইমরান ফিরদাউস ১৯৮০ সনের ১৮ সেপ্টেম্বর আমার দুর্লভ সৌভাগ্য হয়েছিলো বব মার্লের সাথে সাক্ষাৎ ও সাক্ষাতকার নেওয়ার। সে তখন ম্যাডিসন চত্বরের বাগানে অনুষ্ঠান করার জন্য ন্যুয়র্কে ডেরা করেছে;আর এই বাগানে গান করার পরপরই দেশব্যাপী সফরে বেরিয়ে পড়ার কথা ছিল। মার্লের সংকল্প ছিল সফরের শেষ অংকে ন্যুয়র্কে ফেরত আসবে। কিন্তু, বিধি […]

ভাবনা বুদবুদ – ইমরান ফিরদাউস

১.মানুষের বাগানে তুমি এক ভীত ফুল নাম-গুমের বাগানে আর কতকাল তুমি দিয়ে যাবা ভয়ের চারা গাছে জল। সেই গাছের ডালে ডালে এখন ঝোলে ‘ভয়’নামক অদৃশ্য টশটশে ফল… এই ফলটি তুমি পারো খেতে একা একা দরজা বন্ধ করে। কিন্তু,’ভয়’যে আজ তোমায় খাচ্ছে- চলতে-ফিরতে-উঠতে-বসতে-প্রেমে-অপ্রেমে-বিশ্বাসে-নিঃশ্বাসে… সত্যি,তোমার ইচ্ছে করে না- সুন্দরবন বা রুপপুর বা লাউয়াছড়ার গাছগুলো না কেটে ওই […]

পলিটিক্স অফ বেঙ্গল:দৃশ্য বাস্তবতার রাজনীতিতে কিছু গরহাজির আত্মা : ভূমিকা ও অনুবাদ – ইমরান ফিরদাউস

ভূমিকা ছোটবেলায় মানে যখন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদে কর্মী হিসেবে হাতেখড়ি হইছে, তখন না বুঝেই বলতাম ফিল্ম সোসাইটি করি, বাট ফিল্ম সোসাইটি কী বস্তু/খায় না মাথায় দেয়-সেইটা বোঝার একটা তাড়না যে ছিল, তা তো অস্বীকার করার জো নাই। তো, সেই তাড়না থেকে বড়ভাই-বোনদের পাত্তা না দিয়েই, শুলুক সন্ধানে আগ্রহী এ মন বাজারে গিয়ে খুঁজতে […]

কিশোর পারেখ,একটি ফটোগ্রাফ,অন্ধ জাতীয়তাবাদ – ইমরান ফিরদাউস

১৯৭১ সালে ফটোজার্নালিস্ট কিশোর পারেখ নিজ গরজে বাংলাদেশে আসেন মুক্তিযুদ্ধের ছবি সংগ্রহ করতে। সে সময়ের তার তোলা ছবিগুলো দিয়ে ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ আ ব্রুটাল বার্থ’ শিরোনামে ছবিমালা দিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ের পাতায় গাঁথা আলোকচিত্রগুলো সদ্যগত সময়ের এক একটি গনগনে নমুনা হিসেবে চিৎকার করতে থাকে। তো, সেই ছবিমালার ভেতরে ঠাঁই পায় নিচের এই […]

কী কথা শব্দের সাথে ~ ইমরান ফিরদাউস

উপস্থিতির অনুপস্থিতি দেইখা ঘাবড়ায় গেছে অনুপস্থিতি পরীক্ষার পূর্ণমান দেইখা ঘাম ছুটতেছে সময়ের সিলেবাস বেঞ্চের কোণায় বইসা টুকে রাখতেছে আনসিন উপপাদ্য ঘন্টা কাঁপতেছে হাতুড়ির ভায়োলেন্সে ফ্যাকাশে বদনে কাগজ চায়া আছে কলমের দিকে আর কালো কলম অপেক্ষায় আছে গুটি কতক আঙুল আর এক্টা হাতের। হাত তুমি এবার মারো এক হাত কলমের টুঁটি চেপে ধরে প্রয়াত স্মৃতির মলিন […]

স্পিক-আপ অথবা জবানের দাম লাখ টাকা~ ইমরান ফিরদাউস

দুনিয়া যখন সর্বৈব অর্থে লেখনদারির মধ্যে উপগত হইতেছে তখন ফরাসি নির্মাতা স্টিফেন দ্যু ফ্রেইত নাজেল হইলেন এক অনির্বচনীয় সিনে-আলেখ্য নিয়ে। আন্তর্জাতিক শিরোনাম স্পিক আপ (২০১৭)/ মূল ফরাসি শিরোনাম A Voix Haute, La Force De La Parole। আজ যখন দুনিয়াবি দেখনদারি (ভিডিও লিংক সহ) লেখনভিত্তিক জবানের কাছে জিম্মি হয়ে উঠতেছে, প্রমিত প্রমাণরূপে লিখিত বক্তব্য মানহানি ও […]

স্বামী বিদেশানন্দ ~ ইমরান ফিরদাউস

পৃথিবী একটা অদ্ভুত দেশ  সকাল থেকে এরকমই   মনে হইতেছিলো বিদেশের   ধন্দ কাটানোর তাড়নায়   ট্রাংককল দিলো এদেশকে   এদেশ তখনও ঘুমে    খুল্লাম খুল্লা উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর  ট্রাংককলের শব্দে স্বপ্নটা স্বপ্না হয়ে   ঝুলে রইলো স্ক্রিনশটের মত   অতঃপর সওয়াল শুনে এদেশ ভাবে   বিদেশের ঘোড়া রোগ হইছে   ঘোড়া রোগ কিভাবে হয় জানেন তো!   আড়াই কদমে হাঁটলেই মানুষ ঘোড়া হয়ে যায়   বিদেশের তাই-ই হইছে।  উন্নয়নের পর্নোগ্রাফিক চশমা চোখে দিয়ে   এদেশ ভাবে এক ইরোটিক বিদেশের কথা   আর বিদেশ সিনেম্যাটিক পর্দার পেছনে   লুকায় লুকায় কান্দে আর ডুকরায় ডুকরায় কয়  আম্মুর কাছে যাবো।।