কসমিক আর্ক বা বইয়ের ভাঁজে গুছিয়ে রাখা শিল্প ফিরিস্তি-২

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণে ইমরান ফিরদাউস

কসমিক আর্ক ঢাকা শহরের অকাল্ট আর্টিস্ট রনি আহম্মেদের কাজ ও তাঁর কাজ নিয়ে অন্যদের মতামত-বিশ্লেষণ-সমালোচনার একটি সংকলন। সংকলন না বলে কসমিক আর্ক-কে বলা যেতে পারে শিল্পীর (গত)এক জীবনের মনোগ্রাফ। মনোগ্রাফটি আদ্যোপান্ত ইংলিশে লেখা এবং এতে ২০১৩ সন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে রনি আহম্মেদের আঁকা কাজসমূহও অবধাতিরভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

কসমিক আর্কের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় গেরিলা বাতাসের ওড়াওড়ি, যেন তা ছোবল দিতে উদ্যত হয় আর্টের আকাশে ভাসমান মিলিটারি মেঘমালাদের। ঠিক যেন জানান দিয়ে যায় আর্টের দুনিয়ায় পুলিশিং চলে না।

চাইলে কসমিক আর্ককে পাঠিকা বা পাঠক তেলাওয়াত করতে পারেন রনি আহম্মেদের পাঠযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেও। এই স্মৃতিচিহ্ণগুলো শুধু আগে ‘কী সোন্দর দিন কাটাইতাম’-এর রোজনামচা নয় বরং একজন শিল্পীর কী উপায়ে নতুন ভাষার উদ্বোধন ঘটায় বা ঘটিয়ে থাকে, বাঁধাধরা শিল্প-বাস্তবতায়…সে উপায়গুলো খুলে-মেলে দেখায় সম্ভাব্য/অসম্ভাব্য শিল্প-কর্মীদের।

রনি আহম্মেদের কসমিক আর্ক আমাদের জানান দিয়ে যায় ‘পৃথিবী’ বলে কিছু ছিল না বা কোনদিন কিছু একটা পয়দাও হবে না; কেননা- পৃথিবী একটি স্বপ্নমাত্র। তাঁর এ যাবতকালের অংকিত বাস্তবতায় যে পৃথিবীর সন্ধান পেয়ে থাকবো আমরা_সেটিও যেন বা একটি মহাজাগতিক মনের, স্বপ্নসংক্রান্ত ভাব-সম্প্রসারণ।

কসমিক আর্কের মোড়ক ২০১৩ সালে ইতালির ভেনিস বিয়েন্যালের ৫৫তম সংস্করণে উন্মোচিত হয়। জিনাত আহমেদ আলোচ্য পুস্তকের সম্পাদনার কাজটি নিরলসভাবে করেছেন, যার ছাপ বইটির গতরে সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়। কসমিক আর্ক প্রকাশনায় যাবতীয় সহযোগিতা দিয়েছে মারমেইড আর্ট ফাউন্ডেশন। 

২০১৫ সালে রনি আহম্মেদের বাসস্থানে কসমিক আর্ককে কেন্দ্রে করে জমে ওঠা আলাপনটি উপস্থাপন করা হলো এইখানে।

প্রথম পর্বের লিঙ্ক কসমিক আর্ক বা বইয়ের ভাঁজে গুছিয়ে রাখা শিল্প ফিরিস্তি- ১


Untitled-1_0
Photo Courtesy: Shehzad Chowdhury

 

ই: ফি: তো আপনার বইটা করার পেছনে এধরনের কসমিক রেন্ডিশনটি কী রকম? এটির নাম কেন কসমিক আর্ক? রনি’স আর্ক নয় কেন? মানে নৌকাটি তো রনির ই হতে পারত, মহাজগতের কেন?

র: আ: (হাসি) এখানে মেডিটেশনের অনেক ব্যাপার জড়িয়ে রয়েছে। অনেক বছর আগে আমি যখন মেডিটেশন শুরু করি, প্রায় ১০-১৫ বছর, তার আগেও করতাম তবে অন্যভাবে। কনশাসলি মেডিটেশন করছি ১০-১৫ বছর যাবত। তো আমি রিয়াল ট্রুথটি দেখতে পেয়েছি আউট অব দিস ওয়ার্ল্ড। এটি নিজের বডির মধ্যেও আছে, আবার ওয়ার্ল্ডের বাইরেও আছে। লালন যেভাবে বলেন, “দেহের মধ্যে পাবে,” আসলেও পাওয়া যায়।

ই: ফি: হ্যাঁ, যেমন চর্যাপদে লুইপা বলছে, “কাআ তরুবর পঞ্চবি ডাল” (শরীরের মধ্যে পাঁচখানি ডাল)।

র: আ: হ্যাঁ, আবার আপনি কবির পড়লেও পাবেন। কবিরের সাথে লালনের কিন্তু অনেক মিল রয়েছে। দেহতাত্ত্বিক ব্যাপার-স্যাপার রয়েছে। আমি মনে করি মেইন ট্রুথটি আমরা যেভাবে ভিজ্যুয়ালি দেখছি, তার সাথে কোনো যোগাযোগই নেই। মানুষের রিয়াল কনশাসনেস একদম অন্য জিনিস। মানে আমাদের এমন একধরনের সিচুয়েশনে রাখা হয়, যেখানে বিভিন্ন রকম খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয়। ধরুন, লাইফ স্ট্রাগল একটি খেলনা, মানুষের জন্য। এগুলো দিয়ে মানুষকে বেঁধে রাখে আরকি। মানে বুঝতে দেয় না কী হচ্ছে, চোখ বেঁধে রাখা হয় কোনো একটি রিজনে, আই ডোন্ট নো হোয়াই। কিন্তু আসল ট্রুথ কখনো জানতে দেয় না, একটি পর্দা দিয়ে রাখে। কিন্তু, যারা সাধক, যারা ঐরকম সচেতন লোক, তাঁরা হয়ত খুঁজে বের করে। এখানে, আবার কালচারটাও আছে, আমাদের ইস্টে এটা বেশি ছিল। ইস্টে তো সবকিছুই আছে। তাঁরা আসল ট্রুথ খুঁজতে গেছে।

যেমন রুমির একটি কবিতা আছে যে এই ওয়ার্ল্ডটি হচ্ছে সমুদ্রের মধ্যে একটি বাবল (বুদবুদ), নাথিং এলস। শুধুমাত্র একটি বাবল, আপনি ভাবতে পারেন? তাহলে আসল দুনিয়াটি কী রকম সত্য বা কী রকম রিয়েল? ঐ পর্যায়ের লোকেরা সেটা বুঝে গিয়েছে। তো এখন বিজ্ঞানিরা যেগুলো আবিষ্কার করছেন, যেমন কোয়ান্টাম মেকানিক্স বা আরও নতুন নতুন যেগুলো থিওরি আসছে, বেসিক্যালি তো তাঁরা ঐ জায়গাতেই যাচ্ছে, এমনটাই দেখতে পারছি আমরা। পুরনো সাধুদের যেই ব্যাপারগুলো, ওগুলোই তারা সাইন্সের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করছে। আমি শুনেছি যে নাসা(NASA) ইন্ডিয়া থেকে সাধু ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, যারা ২০-২৫ বছর না খেয়ে থাকেন। যারা পারেন, স্পেস ট্র্যাভেলের জন্যে তাঁরা কীভাবে এটা করেন তা জানার জন্যে। উইদাউট হ্যাভিং ফুড, ওয়াটার, এনিথিং, বেঁচে আছেন বছরের পর বছর।

ই: ফি: সাইন্স যেখানে বলে আপনি না ঘুমিয়ে সাত দিন এবং না খেয়ে আর অল্প কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে।

র: আ: হ্যাঁ, আপনি যেটা জানেন না, সাইন্স সেটা জানতে চাচ্ছে। আর আপনার স্পিরিচুয়ালিটি হচ্ছে আপনি জানেন, আপনি যাচ্ছেন। আর ধর্ম হচ্ছে কীভাবে যাবেন, কী পোশাক পরবেন, কী কী নিয়ম পালন করতে হবে, এটারই এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, এর বেশি কিছু নয়।

আপনার স্পেস স্যুটের কালার কী হবে, তারপর আপনি কয় কদম ফেলবেন, ডানে তাকাবেন না বামে তাকাবেন – এগুলো হচ্ছে রিলিজিয়ন। বাট, স্পিরিচুয়ালিজম হচ্ছে ট্রুথ। আমি আগে জানি কী আছে আমার পথে, কিন্তু আমাকে যেতে হবে। মানে কনফার্মেশন একধরনের, আর সাইন্স হচ্ছে অল্ওয়েইস ইন ডাউট। বাট, দুটোই কিন্তু সার্চ অব গড, বোথ স্পিরিচুয়ালিজম এবং সাইন্স। আপনি আল্লাহ্‌কে খুঁজছেন বিভিন্নভাবে, কেউ স্বীকার করছে, কেউ করছে না। আমি আল্লাহ বলছি আমার বিশ্বাস থেকে, অন্য কেউ হয়ত বলবে সুপারইন্টেলিজেন্স, হোয়াটএভার। একই জিনিসকে জাস্ট নাম চেইঞ্জ করে বলা – যেটা যার বিলিফ আরকি।

ই: ফি: তাহলে কসমিক আর্ক আপনার জার্নির একটি আর্কাইভ ছিল। মানে আমরা এক্সিবিশনে যেমন একটি করে ব্রোশিওর পাই, সেরকমই।

Catalogue2005_01

র: আ: না না না, ওটা নয়। প্র্যাক্টিক্যাল রিজন তো আলাদা, হ্যাঁ। মানে প্র্যাক্টিক্যাল কন্সিডারেশন তো আছেই, না হলে এতগুলো টাকা খরচ করবে কে? আমিতো একজন আর্টিস্ট, আমার কাছে তো এগুলো ম্যাটার করে না। কিন্তু বিজনেস পার্পাসে আমার তো এগুলো দেখাতে হবে। আমার ক্যারিয়ারেরও একটা ব্যাপার আছে।

ই: ফি: হু হু, সে কারণেই প্রশ্নটি করলাম, একটু ঘুরিয়ে করলাম খোঁচা দিয়ে।

র: আ: হুম, ওইগুলো তো আছেই। একটি প্র্যাক্টিক্যাল সাইড আছে। এখন আমার জার্নিটা আবার অন্য মোড় নিয়েছে, আমি এখন মোর ফোকাসড। এখন আমি কোথায় যাচ্ছি, তা জানি। এবং এই উদ্দেশ্যটি জানার জন্যেই অনেক কিছু করতে হয়েছে – কসমিক আর্ক বইটা বের করতে হয়েছে। এখন আমার জানাটা হচ্ছে- আমার বডি এবং স্যোওলের একটি লক্ষ্য রয়েছে, একটি উদ্দেশ্য পাঠানো হয়েছে। তো এটা খুঁজে বের করতে হবে। সহজ জিনিস, কিন্তু মাঝখানে অনেক ডাউটে ছিলাম আরকি, কাজও অনেক কম করেছি।

আসলে যে কী করছি, কিংবা ওয়ার্ল্ডে কাজটি কী আসলে? আমার ছবি আঁকতে হবে, আবার আমার নিয়ন্ত্রণেও কিছু নেই আসলে, খুব কম। আগে ছিল, কিন্তু ইদানিং কয়েকটা জিনিসের পরে, ঐ জিনিসটি এখন আর আমার হাতে নেই। একটি এক্সটারনাল বা অন্য কিছু আমাকে গাইড করছে, নিয়ে যাচ্ছে কোথাও।

ই: ফি: সেটা কি আপনাকে অসহায় করে, মানে আপনার হাতে/কন্ট্রোলে যে কিছু নেই?

র: আ: না, অসহায় করে তোলে না, কিন্তু আমরা তো অভ্যস্ত না। মানে আমাদের লজিক্যাল মাইন্ড তো এতে অভ্যস্ত নয়। আমারও মাঝে মাঝে ভয় লাগে যে সবসময় টেইক কেয়ার করবে কিনা এবং সবসময় আমাকে পথ দেখাবে কিনা।

ই: ফি: ভয়টা কি অসহায়ত্ব নয়?

র: আ: না, ইটস মোর কনফিডেন্ট। এটি একটি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বড়; ইটস এ বিগ জার্নি। মানে এটি নদী থেকে সমুদ্রে আসা, এতদূর বলতে পারি যে আপনি সমুদ্রে আসলে তো ভয় পাবেনই। কিন্তু আপনার শিপটা স্ট্রং হতে হবে। এগুলো সবতো একই কোডের মধ্যে চলে আসে – তুমি সমুদ্রে এখন তোমার জাহাজটা শক্ত কর। এরকম আরকি জিনিসটা- করলে ইউ ক্যান ক্রস।

ই: ফি: সো, এই বইটি করার পরে আপনার কি মনে হয়েছে কিংবা এমন কিছু কি বেরিয়ে এসেছে যার ফলে আপনার এমনটা মনে হয়েছে যে, আপনি নিজেও কখনো জানতেন না আপনি এরকম? এরকম কোনো ফেনোমেনা পেয়েছেন আপনি?

র: আ: ছবি অনেকগুলো দেখে মনে হয়েছে যে মজাই হয়েছে, ভালই হয়েছে। হেহেহে…

ই: ফি: বা আপনাকে নিয়ে যেসকল বিচার বিশ্লেষণ যে আপনি…

র: আ: ওইটা তো আসলে… না, ওগুলোতে আমার সমস্যা নেই, ওগুলোতে আমি খুশি। আমার বন্ধুবান্ধব লিখেছে অনেকে। ওগুলো যারা লিখেছে সবাই বন্ধুবান্ধব। আপনি সমাজের উঁচু জায়গা থেকে বলেন, বা সমাজে যেখানে থাকুক, সবাই আমার বন্ধু। মানে বয়সের ক্ষেত্রে বলছি আরকি, যোগ্যতার ক্ষেত্রে নয়। সবাই আমার বন্ধুবান্ধব এবং ওরাই লিখেছে। ঐ জন্য আমার জন্য একটি মজার জিনিস, ইমোশনাল জিনিসও যে বন্ধুবান্ধব লিখেছে, সবাই মিলে ছাপালাম আরকি। মানে এভাবে তো বই বের করে না কেউ; সাধারণত একজনকে দিয়ে লেখায়।

ই: ফি: একজনকে দিয়ে লেখায় এবং খুবই একাডেমিক একটি পারস্পেক্টিভ থাকে…

র: আ: আমি ওটা করতে পারতাম, কিন্তু চিন্তাটি ছিল যে একজনকে দিয়ে লেখালে, এটার যে এতোগুলো ধার আছে তা একজন পারবে না, আসলেই পারবে না। এবং এটি বিভিন্ন টাইমে বিভিন্ন জনে লিখেছে, ফলে এটাকে ইয়ে করতে তো একটু সময় লাগবে।

ই: ফি: বা যেটা হলো যে, কসমিক আর্কে যাদের লেখা আছে, তাঁরা আবার সমাজস্বীকৃত শিল্প সমালোচক নন। মানে আপনি যে বইটির কথা বললেন, সেই বইটিতে তো পেশাগতভাবে…

র: আ: দু’একজন ছাড়া ওভাবে কেউ নেই।

ই: ফি: সামাজিকভাবে স্বীকৃত সমালোচক যে, সেই এইটাপের বইইয়ের লেখালেখির কাজ করে থাকে। তাঁদেরকে দিয়েই বইয়ের টেইস্টগুলো হাজির করা হয়।

র: আ: হ্যাঁ, ডেফিনেটলি এখানে ওই জিনিসগুলো নেই।

ই: ফি: তো এই চ্যালেঞ্জটা কি বন্ধু হিসেবেই আপনার প্রেফারেন্স?

র: আ: শুধুমাত্র বন্ধু বলেই নয়, তাঁরা নিজেরাই লিখেছেন।

ই: ফি: আমি বলছি যে এই ক্যাটাগরির লেখাটাই আপনি নিলেন কেন? আমার প্রশ্নটি এখানে। কারণটা কি শুধুমাত্র বন্ধুত্ব, নাকি আপনি মনে করেছেন যে এদের ভয়েসটাই আমার দরকার র‍্যাদার দ্যান আর্ট-ক্রিটিক?

new_pic32

র: আ: না এদের ভয়েসটা দরকার, বন্ধুত্ব তো আলাদা জিনিস। বন্ধুত্ব অনেক ধরনের আছে। ধরুন আমি তো এমন একজনকে দিয়ে লেখাতে পারব না যে ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করে এবং ওই দিকেই তার মনোযোগ। এরকম একজনকে দিয়ে লিখিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। এরকমও বন্ধু আছে, আবার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক এমনও বন্ধু আছে – কিন্তু এদেরকে দিয়ে তো আমি লেখাতে পারব না।

আমাদের ঢাকা শহরকে নিয়ে কালচারালি আমরা যখন কাজ করছিলাম, উই ওয়েয়ার ভেরি ফিউ পিপল। তো ওই অর্থে একটি সার্কেল ছিল আমাদের, এবং আমি ওভাবে ঐ সার্কেলের বাইরে যাইনি কখনো। আর ওসব কাজগুলো ছিল একটা গহীন গ্রামে ইউএফও নামলে যেটা হয়, চমকে যাবে বাট কিছু বুঝবে না – এরকম অবস্থা। এটাকে যারা যারা বুঝতে পেরেছে, যেহেতু তাঁরা ইন্টেলিজেন্ট, যারা এগোনো, তাঁরাই বুঝতে পেরেছে।

এবং সামহাউ আমি বুদ্ধিমানদের সাথে মিশতাম, এভাবে দুই চিন্তাধারার মিলন ঘটেছে। আমি আমার বন্ধুদের দিয়ে লিখিয়েছি, ব্যাপারটা ওরকম নয়; ব্যাপারটি হচ্ছে আমি মিশেছি অগ্রসর মানুষদের সাথে, যারা এডভান্সড পিপল। এদের প্রগতিশীল বলা হয়, নাকি?

ই: ফি: মানে প্রগ্রেসিভ অর্থে প্রগ্রেস আরকি।

র: আ: হ্যাঁ, আমি প্রগ্রেসিভ লোকজনের সাথে মিশেছি। মেশার ফলে আমিতো বলবো না যে শত্রু তাঁরা। ইটস এ টার্মস, যে বন্ধু। আর আমি ওভাবে লোকজনের কাছে দৌড়াদৌড়ি করিনি। এটার কারণ হচ্ছে, এই জিনিস বোঝার ব্যাপার আছে। আমি দৌড়াতে পারতাম। কিন্তু বাংলাদেশে লোক কম আছে; মানে এভাবে লেখার লোক কিংবা সিরিয়াসলি চিন্তা করার লোক কম আছে। আবার সিরিয়াসলি চিন্তা কে কোন মুহূর্তে করবে, সেটারও একটা ব্যাপার রয়েছে। এর ফলে যারা যারা আগে আগে লিখেছে, তাঁদেরটা কম্পাইলেশন করে দিয়েছি।

কারণ, আমিতো জানি যে নতুন করে দিলে টাইমও লাগে অনেক দিন, আবার আগ্রহও থাকবে না। এখানে ইনভেস্টেরও একটি ব্যাপার আছে – বেশি দেরি হলে ইনভেস্টাররাও হয়তো আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সো আমারতো কোনো দরকার নেই, কারণ এখানে যারা লিখেছে, খুব মনোযোগ দিয়ে লিখেছে। আপনি পড়লে বুঝতে পারবেন। মানে অন্য এক্সিবিশনে যেভাবে করে, ওভাবে লেখেনি। প্রত্যেকে যথেষ্ট পরিমাণে এনার্জি দিয়েছে।

ই: ফি: আন্তরিকতা এবং গুরুত্ব সহ…

র: আ: গুরুত্ব সহকারে এবং ভালোবেসে দিয়েছে; নট ওনলি গুরুত্ব। একধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে দিয়েছে আর কি…

ই: ফি: যোগাযোগের মাধ্যমে এবং বিশেষ করে কিছু কিছু লেখা পড়ে তো আসলে বলতে হয় যে এই লেখাটা যত না শিল্পের…

র: আ: এমন লেখাও আছে যে এই স্ট্যান্ডার্ডের লেখা বাংলাদেশেই হয়নি, আর্টের ক্ষেত্রে, আপনি পড়ে দেখেন।

ই: ফি: মানে যেকোনো একজন আর্টিস্টকে নিয়ে।

র: আ: হ্যাঁ, হয়নি। মানে বাংলাদেশে এরকম ইন-ডেপথ লেখা হয়নি কখনো।

ই: ফি: হ্যাঁ, ঐযে সিলেটের সুনৃত থেকে যে লেখাটি আপনি নিয়েছেন।

র: আ:হ্যাঁ, ওর টার কথাই ধরুন। ওভাবে ইন-ডেপথ লেখা কে লিখবে?

ই: ফি: ঐ লেখাটার রেফারেন্সে বলতে চাচ্ছিলাম যে আমার ঐ লেখাটা দেখলে মনে হয় যে যত না শিল্পী রনি আহমেদ কে বোঝার চেষ্টা, তার চেয়ে শিল্পী রনি আহমেদ কেন আমাকে অ্যামিউজ করে…

র: আ: না, ওর লেখাটি আমি অনেক সিরিয়াসলি নিই; কারণ কী যে ও অনেক মিস্ট্রি ধরতে পেরেছে, ঐ সময় আমি বুঝতে পেরেছি। মানে নট ওনলি দ্যাট আমাকে প্রেইজ করেছে তা না…

ই: ফি: না না, সে আপনাকে প্রেইজ করেছে সেই হিসেবে আমি ওকথাটি বলিনি। বরং আমি বলছি যে রনি আহমেদের কাজ কেনো আমাকে আনন্দিত করে, সে হিসেবে আরকি। যে আমার সাথে আমার বোঝাপড়া। মানে যেটা আপনি বলছিলেন যে মিস্ট্রি ধরা, সেটাকে আমি এভাবে বলার চেষ্টা করছি।

ronni_ahmmedfamily_of_stonefront

র: আ: হ্যাঁ, ওটা ওর একটি ইনার-জার্নির অংশ ছিল, সেজন্য জিনিসটা খুব ভালো হয়েছে।

ই: ফি: সেখানে আপনি একটা ফ্লোটিং ভেহিক্যাল ছিলেন আরকি।

র: আ: হ্যাঁ, সেখানে আমি বড় একটি এলিমেন্ট ছিলাম। এবং সে কারনে জিনিসটা খুব ভালো হয়েছে। সে কারণে- জিনিসটা খুব সিরিয়াস পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারণ, আপনি ইনার জার্নিতে না গেলে তো সিরিয়াস কিছু করতে পারবেন না, যাই করেন। মানে আপনি যদি চোখ বুজে চিন্তা না করেন, তাহলে কিচ্ছু হবেনা। মানে এটা একদম ল’ যে আপনাকে ভেতরে তাকাতে হবে। অনেকে বলে চোখ খোলা রাখো; আর আমি বলি চোখ বন্ধ রাখো, খুলো না। ঠিক উল্টো।

ই: ফি: রাস্তা ঘাটেও চোখ বন্ধ রেখে হাঁটতে বলছেন? হাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহাআহাহাহ…

র: আ: না, ওটা হরতালের দিন। হাহাহাহাহাহাহাহাহা।

হরতাল বা যেখানে এখনো রাস্তা হয়নি। চোখ বন্ধ করা কিন্তু এখনকার ছবিতে অনেক এসেছে, আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন। সবার চোখ বন্ধ করা, ম্যাক্সিমামই। এটাও চোখ খোলা না বন্ধ বোঝা যাচ্ছে না। এটা আবার ঐ জিনিস না যে চোখ খোলা না বন্ধ।

ই: ফি: ঠাকুরের ভাষায় বললে আপনার কোনো ক্যারেক্টারের বিভাবরী জাগরণে কাটে না।

র: আ: আগে আবার চোখ খুব প্রমিনেন্ট ছিল। যেমন ঐ যে পুরনো ছবিটিতে দেখুন।

ই: ফি: সবই তো। মানে আপনার পুরতন সিরিজের সবই।

র: আ: অজস্র চোখ আছে। কিন্তু এখন আমার চোখ আসেনা, এখন আমার সব চোখ বন্ধ হয়ে যায়। মানে বন্ধ চোখ আঁকতে ইচ্ছে করে। আই ফীল মোর কমফোর্টেবল।

ই: ফি: বন্ধ চোখ, নয়ন?

র: আ: হ্যাঁ। বন্ধ চোখটা হচ্ছে আপনি এই দুনিয়া ছেড়ে ভেতরের দুনিয়ায় গেলেন। এতদিন আপনি বাইরের দুনিয়া দেখছিলেন, আর এখন আপনি ভেতরের দুনিয়ায় প্রবেশ করলেন। বাইরের দুনিয়ায় আপনি কে, তা আপনি আপনার আত্মাকে দেখাচ্ছিলেন; এখন আপনি চোখ বন্ধ করে নিজেকে নিজে দেখছেন।

ই: ফি: তাহলে, বন্ধ মানেতো একটি কাভার, তাই না? যেমন কোনো কিছু বন্ধ করতে হলে সেখানে তো একটি কাভার দিতে হয়, মলাট। তাহলে বন্ধ চোখে…

র: আ: চোখ বন্ধ করা মানে না-দেখা নয়। এর মানে হচ্ছে আরো দেখা।

ই: ফি: হ্যাঁ, সেটা ঠিক আছে। তাহলে এই মলাট-বন্দী কসমিক আর্কের রনি আহমেদ, আর চোখ খুলে দেখা গ্যালারির রনি আহমেদ, এই রনি আহমেদ সম্পর্কে ব্যক্তি রনি আহমেদের কী মতামত?

র: আ: কসমিক আর্কের কাভারটা দেখবেন আপনি; ইটস কাইন্ড অব এ হিডেন। এটা হচ্ছে আমার দুটো সাইড আছে। একটা হচ্ছে আপনার ছবি দেখানো, বা প্রচার করা, আমার ব্যাপারটা হচ্ছে আমি বডিলি কোথাও প্রেজেন্ট থাকতে চাই না।

ই: ফি: বাট ইউ হ্যাভ ফিজিক্যাল এক্সিস্টেন্স।

র: আ: হ্যাঁ, তা তো বটেই। কিন্তু বডিলি প্রেজেন্ট থাকতে চাই না মানে আমাদের পৃথিবীতে বডি একটি টার্গেটেড এলিমেন্ট। আপনি যখন বডিটিকে নিয়ে যাবেন কোথাও, একটি অবজার্ভেশন হবে, আপনাকে মাপবে। আপনি কোথাকার/কে/কোন ক্লাসের/ কত টাকা আছে- এই সেই। ফলে, আপনি কিন্তু টার্গেটেড এলিমেন্ট, সামাজিকভাবে। আপনাকে সুন্দর ড্রেসআপ করতে হবে, তারপর কথা বলতে হবে সুন্দর করে। ইন্টেলিজেন্ট কিছু বললেও বুঝবে না, অফেন্ডেড হবে। সেহেতু আপনাকে ডাম্বের মতো কথা বলতে হবে, মাঝারি মানের। মানে টোটালি কনফার্মেশন এন্ড ইয়া। এ ভেরি ফিউ পারসেন্ট যাদের সাথে আপনি কমফোর্টেবল হতে পারবেন।

কিন্তু এমনি যখন আপনি পাবলিকে যাচ্ছেন, তখনও কিন্তু আপনি টার্গেটেড। যেকোনো এক্সিবিশন বলেন, বিয়ে বাড়ি বলেন, দাওয়াত বলেন, যাই বলেন, আপনাকে অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে একসঙ্গে এক ঝাঁক জিনিস। কোনো পার্টিতে গেলে আপনাকে বলতে হবে আমি এই করি, ঐ করি, হেন করি, ত্যান করি। মানে এরকম সবসময় একটি পরীক্ষা, একেকটি এক্সামিনেশন। তো আমি এগুলোর বাইরে থাকতে চাই। এগুলো আমাকে ডিস্টার্ব করে, তার ওপর আমি একটু সেন্সিটিভ। আই ডোন্ট লাইক ইট, মানে আমার পছন্দ না। কিন্তু আমার কাজ দেখুক সমস্যা নেই; মানে ঐ ব্যাপারে আমার ভালই আগ্রহ আছে। কাজ দেখুক এবং…

ই: ফি: সেটা মলাট-বন্দী হোক, অথবা গ্যালারির দেয়ালে ঝুলে হোক, মানে উন্মুক্তভাবে দেখুক।

র: আ: হ্যাঁ। আবার ওরকম ক্রেইজিও না যে কাজ দেখতে হবে, না দেখলে পাগল হয়ে যাব। দেখাতেই হবে ওরকম নয়। মানে আই হ্যাভ টাইম। টাইমের কনসেপ্টটি এরকম যে- আমার কাছে টাইম আছে।

ই: ফি: হুম…

র: আ:মানে আমার এখন এমন মনে হয় যে মারা যাব তাতে কী? মারা গেলেও তো কাজ বন্ধ হবে না।

ই: ফি: বা আপনি কি জীবিত?

র: আ: সেটাও একটা প্রশ্ন। না, আসলে ওইটাও বলা যায়না। কারণ মানুষ তো আসলে পুরোপুরি ওভাবে জীবিতও থাকেনা। কোনো একটা জায়গায় তার টান থাকে। অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ড তো কাটে ফিজিক্যালি, কিন্তু আসলে কি কাটে? কাটে না তো!! একটি অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ড আছে, যেটি কখনো দেখা যায়না, তবে আছে। ওটা মৃত্যুর ঐ পাড়ের জগতের সাথে সমসময় একটি যোগসাজশ। নাহলে আপনি স্পিরিচুয়্যাল হতেন না। একটি অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে আপনার সাথে সবসময় মহাবিশ্বের যোগাযোগ রয়েছে।

cover2006

***এই লেখায় ব্যবহৃত সকল চিত্রকর্ম শিল্পী রনি আহম্মেদের আঁকা

শ্রুতিলিখন: মাহফুজ রহমান

Advertisements

One thought on “কসমিক আর্ক বা বইয়ের ভাঁজে গুছিয়ে রাখা শিল্প ফিরিস্তি-২

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s