কসমিক আর্ক বা বইয়ের ভাঁজে গুছিয়ে রাখা শিল্প ফিরিস্তি-৩

ভূমিকা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণে ইমরান ফিরদাউস

কসমিক আর্ক ঢাকা শহরের অকাল্ট আর্টিস্ট রনি আহম্মেদের কাজ ও তাঁর কাজ নিয়ে অন্যদের মতামত-বিশ্লেষণ-সমালোচনার একটি সংকলন। সংকলন না বলে কসমিক আর্ক-কে বলা যেতে পারে শিল্পীর (গত)এক জীবনের মনোগ্রাফ। মনোগ্রাফটি আদ্যোপান্ত ইংলিশে লেখা এবং এতে ২০১৩ সন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে রনি আহম্মেদের আঁকা কাজসমূহও অবধাতিরভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

কসমিক আর্কের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় গেরিলা বাতাসের ওড়াওড়ি, যেন তা ছোবল দিতে উদ্যত হয় আর্টের আকাশে ভাসমান মিলিটারি মেঘমালাদের। ঠিক যেন জানান দিয়ে যায় আর্টের দুনিয়ায় পুলিশিং চলে না।

চাইলে কসমিক আর্ককে পাঠিকা বা পাঠক তেলাওয়াত করতে পারেন রনি আহম্মেদের পাঠযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেও। এই স্মৃতিচিহ্ণগুলো শুধু আগে ‘কী সোন্দর দিন কাটাইতাম’-এর রোজনামচা নয় বরং একজন শিল্পীর কী উপায়ে নতুন ভাষার উদ্বোধন ঘটায় বা ঘটিয়ে থাকে, বাঁধাধরা শিল্প-বাস্তবতায়…সে উপায়গুলো খুলে-মেলে দেখায় সম্ভাব্য/অসম্ভাব্য শিল্প-কর্মীদের।

রনি আহম্মেদের কসমিক আর্ক আমাদের জানান দিয়ে যায় ‘পৃথিবী’ বলে কিছু ছিল না বা কোনদিন কিছু একটা পয়দাও হবে না; কেননা- পৃথিবী একটি স্বপ্নমাত্র। তাঁর এ যাবতকালের অংকিত বাস্তবতায় যে পৃথিবীর সন্ধান পেয়ে থাকবো আমরা_সেটিও যেন বা একটি মহাজাগতিক মনের, স্বপ্নসংক্রান্ত ভাব-সম্প্রসারণ।

কসমিক আর্কের মোড়ক ২০১৩ সালে ইতালির ভেনিস বিয়েন্যালের ৫৫তম সংস্করণে উন্মোচিত হয়। জিনাত আহমেদ আলোচ্য পুস্তকের সম্পাদনার কাজটি নিরলসভাবে করেছেন, যার ছাপ বইটির গতরে সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়। কসমিক আর্ক প্রকাশনায় যাবতীয় সহযোগিতা দিয়েছে মারমেইড আর্ট ফাউন্ডেশন। 

Ronni Ahmmed and Imran Firdaus

২০১৫ সালে রনি আহম্মেদের বাসস্থানে কসমিক আর্ককে কেন্দ্রে করে জমে ওঠা আলাপনটি উপস্থাপন করা হলো এইখানে।

দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক কসমিক আর্ক বা বইয়ের ভাঁজে গুছিয়ে রাখা শিল্প ফিরিস্তি-২


minimalist-art-minimalism-6

ই: ফি: বা, আরেকটা কথা আছে যে সব ছেলেই পাগল; কিন্তু মা ছাড়া সেই পাগলামি কোনো নারী বোঝে না।

র: আ: হ্যাঁ, মানে মায়ের মতো একটি এনার্জির সাথে আপনার কানেকশন আছে। মোর দ্যান মা, অর্থাৎ মায়েরও তো একটা স্বার্থ থাকে, ওটা এরকম কোনো ইয়ে নাই। মানে ওটা আরো বড় জায়গা আরকি। মাকে মা হতে হয়। মা হতে হওয়া মানে ওখানে অনেক কিছু প্ল্যান আছে।

ই: ফি: যেকোনো মা ইতো আসলে কুমারী।

র: আ: কুমারী আছে, আবার ওখানে প্র্যাক্টিসের ও ব্যাপার আছে। নিজেকে বুঝাতে হয় আমি মা – এরকম ব্যাপার আছে।

ই: ফি: ‘মা’ তো একটি অবসেশন।

র: আ: হ্যাঁ, অবসেশনই একধরনের। তা এখন ধরেন আরো বড় মা আছে আরকি, মানে যে আসল মা, যার কোনো কন্ডিশন নেই। মানে আপনি যাই যতই করেন, তাতে তাঁর কিছু এসে যায় না।

ই: ফি: মাটি? মাটি কি সেই আনকন্ডিশনাল মা?

র: আ: মাটি ওটার প্রতীক, সিম্বোলাইজ করতে পারে।

ই: ফি: মাটি ধান ফলায়, গমও ফলায়, মেহগনিও ফলায়।

র: আ: মাটি ওটার একটা মেটাফোর বলতে পারেন। মানে আমরা আনকন্ডিশনালি এই পৃথিবীতে এসেছি। আমরা যেটা ভাবি যে অনেকরকম কন্ডিশন দেওয়া আছে, আসলে সেরকম কিছুই নেই। জাস্ট আমরা নিজেরা নিজেরা কন্ডিশন বানায়ে নিজেরা সাফার করি। এটার খুব বাস্তব প্রমাণ আছে যে যেই পরিমাণ টাকা পৃথিবীতে আছে, যে পরিমাণ খাদ্য আছে, তাতে একটি লোকও না খেয়ে থাকার কথা না। সবারই বড়লোক হওয়ার কথা। তাহলে, প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা নিজেরা নিজেরা যদি ম্যান-মেইড কনশাসনেস, ইগো, গ্রীড, এগুলোর জন্যেই আমরা গ্রহণ করছি না জিনিসগুলো। দু’একজন লোক নিচ্ছে তাদের কাল্পনিক স্বত্বা কে স্যাটিস্ফাই করার জন্য। যে লোকের একটি বাড়ি দরকার, সে লোক এখন ভাবছে আমার ৫০টি অট্টালিকা দরকার। এজন্য আমাকে এসব করতে হবে। যে রাষ্ট্রের প্রচুর টাকা আছে, সে আরেকটি রাষ্ট্রের অবস্থা বারোটা বাজিয়ে তাদের শাসন করে। এগুলো হচ্ছে ইম্যাজিনারি ক্রাইসিস। এসকম ইম্যাজিনারি ক্রাইসিস তৈরি করে করে আমরা এই হোলিস্টিক মাদারনেস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। যে আনকন্ডিশনাল মা, এটা আমাদের দেওয়া আছে। এমনি স্পিরিচুয়্যালি বললাম ওখানে লজিকের কোনো জায়গা নেই। কিন্তু লজিক দিয়েই আপনি পরখ করুন – আমাদের সমস্ত সম্পদ দেওয়া রয়েছে, কিন্তু আমরা নিজেরাই সেগুলো নিতে পারছি না। সব ক্রাইসিসের সমাধান দেওয়া আছে, কিন্তু আমরাই শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী নই। আপনি নিকলায় টেস্লার নাম শুনেছেন?

ই: ফি: হু হু।

silent_widow__endless_glove_by_angus_gillett-d7mprui
silent_widow__endless_glove_by_angus_gillett-d7mprui

র: আ: টেসলা ছিল এডিসনের আন্ডারে। এবং মেজর আবিষ্কারগুলো সে করেছে কিন্তু নাম গেছে এডিসনের।

ই: ফি: টেসলা তো একটি কাল্ট।

র: আ: কাল্ট হলেও বাস্তব আরকি জিনিসটি। আমি বড় বড় লোকদের সাথে কথা বলেছি, বাইরের বিজ্ঞানী যারা। সে আরেকটা বড় কোম্পানির কাছে গিয়েছিল, নামটা কী যেন, ভুলে গেলাম। তো ঐ কোম্পানির কাছে গিয়ে বলেছিল যে আমি ফ্রী এনার্জি দেব পুরো ওয়ার্ল্ডকে। বিরাট প্রস্তাব। তারপর ঐ কোম্পানিতো বুঝতে পেরেছিল যে এতো আমাদের ব্যাবসা মারবে! আমরাতো ব্যাবসা করতে পারব না একে দিয়ে।

ই: ফি: হ্যাঁ, আমরাতো লাইট বেচবো।

র: আ: তারা বলল আমরা তো ফ্রী এনার্জি দেব না। তখন টেসলাকে বলল তুমি চুপচাপ আইডিয়া দাও, বাকিটা আমরা করব। এরকম ওকে ভুলভাল বুঝিয়ে, ফাইভ স্টার হোটেলে রেখে, ভীষণ কমফোর্টেবল লাইফ দিয়ে রেখে দেয়। এভাবে ও একের পর এক আইডিয়া দিতে থাকে, আর কোম্পানি ব্যাবসা করতে থাকে। এভাবে সারা পৃথিবীকে তারা বঞ্চিত করে। মানে এনার্জিকে ক্যাপচার করে রেখেছে। এখনো পানি দিয়ে গাড়ি চলে এরকম প্রযুক্তি ১৯৬০ সালে বেরিয়েছে, জানেন আপনি?

ই: ফি: হু হু।

র: আ: দি টেকনোলজি ইজ দেয়ার। আরো অনেক টেকনোলজি বেরিয়েছে যেগুলো দিয়ে এখনকার সব সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু এগুলো হচ্ছে প্যাকেট বন্দী।

ই: ফি: হ্যাঁ, হ্যাঁ। কয়েকদিন আগে শুটকো নিউজ হয়েছিল যে বাংলাদেশের একজন আবিষ্কার করেছে পানি দিয়ে গাড়ি চালাবে; বাতাস দিয়ে গাড়ি চালাবে!

র: আ: হ্যাঁ, এরকম হয়েছে তো! ওনলি ব্যাটারি দিয়ে গাড়ি চালায়, দিনাজপুর থেকে বগুড়া যেতে আট টাকা লাগে।

ই: ফি: আচ্ছা, আপনি তো তাহলে জানেন নিউজটা। তাহলে এটাতো গভর্নমেন্টই অ্যালাউ করছে না।

র: আ: এগুলো অনেক ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স আছে; দেবে না আসলে এগুলো করতে। তো সবই আরকি কর্পোরেট না কী যেন বলেনা, ওদের ব্যাপারস্যাপার আরকি। এরা ডিসাইড করে কার পকেট থেকে কতো টাকা যাবে, কে কতদিন না খেয়ে থাকবে, আবার কে প্রতিদিন কাচ্চি বিরিয়ানি খাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম প্রেসক্রিপশন দেওয়া আছে। এখানে তো আপনি ঐ মাদার স্বত্বাকেই নেগেট করছেন। ওটা না করলে কোনো সমস্যাই থাকত না। এভাবে মানুষ নিজেই নিজের হেল তৈরি করছে। এখানে কিছু করার নেই আসলে। বলে না আল্লাহ দেন আমাদের? আসলে আল্লাহ নাতো। আল্লাহ যা দেওয়ার, প্রকৃতি যা দেওয়ার, সব দিয়ে দিয়েছে মানুষকে। আর ‘তোমরা’ বলতে একটি ব্যাপার আছে। “আমি কেন গরীব?” এটা নয়; “আমরা কেন গরীব?” এই চিন্তাটি করতে হবে ওয়ার্ল্ডের। এই ‘আমরা’ চিন্তা যতদিন না আসবে, ততদিন এরা কেউ কিছুই করতে পারবে না। ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’ তে যেতে হবে। যদি বাস্তব জগতে পৃথিবীর উন্নতি করতে হয়, এই ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’ এ গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এখানে ‘আমরা’ টাকে একটি ফাজলামো, বদমাশি স্তরে নিয়ে গেছে; আর ‘আমি’ তো আছেই। ‘আমি’ তা হচ্ছে একদম চাইল্ডিশ স্তরের। দেখবে অনেকে বলে আমরা এটা করছি, ওটা করছি, কিন্তু বেনিফিট নিচ্ছে আসলে একজন। পলিটিক্যাল পার্টিগুলো তাই করছে; “আমরা আমরা” করছে, কিন্তু বেনিফিট নিচ্ছে পঞ্চাশ জন।

ই: ফি: পঞ্চাশটি ‘আমি’ নিচ্ছে।

র: আ: পঞ্চাশটি আমি নিচ্ছে, এক্স্যাক্টলি। ‘আমরা’ কনসেপ্টটি নেই আসলে। কিন্তু পৃথিবীটাই ‘আমরা’। এবং এই ‘আমরা’র বিরুদ্ধে যখন ‘আমি’ দাঁড়াতে চাই, তখনই পৃথিবীটার বারোটা বাজছে আরকি। এই ইগোটাই হচ্ছে, বা যদি আপনি রিলিজিয়াস পয়েন্ট-অব-ভিউ থেকে বলেন, তাহলে এই ‘আমি’ টাই হচ্ছে আসলে ডেভিল। ডেভিল কাজ করে আসলে ইগোর মাধ্যমে। ইগো থেকে গ্রীড আসে, গ্রীড থেকে এভ্রিথিং ডিরাইভ করে। তো ‘আমি-আমরার’ সমস্যাটা না মেটালে আমরা কিছু করতে পারব না আসলে।

ই: ফি: তো আপনার কথা শুনতে শুনতে একটি ফ্রেইজ মাথায় আসল, যে হোয়্যার ডু ইউ গো উইথ ইগো? হাহাহাহাহা… বাট ইকোটা হচ্ছে- “হোয়্যার ডু ইউ ওয়ান্ট টু গো, মাই ইগো?” হাহাহাহাহা…

র: আ: এটা এত কানেক্টেড, আর সবাই এটাতে ভোগে তো, আর হোল সিস্টেমে এটা বিলং করে তো, আপনি সহজে এটা থেকে বেরুতে পারবেন না।

Plodding Historian (@lke73_historian)
Plodding Historian (@lke73_historian)

ই: ফি: একটা খুবই বাজারি তুলনা, তবুও বলতে হয় যে একজন আর্টিস্ট নিজেই নিজের কাজগুলো নিয়ে এভাবে ডকুমেন্টেশন করা, জীবিত অবস্থায় – এর কি আর কোনো নমুনা আছে বিশ্বে?

র: আ: আমার তো মনে হয় না। বাংলাদেশে তো কোন এখনো প্রফেশনালিজম নেই; বিদেশে হয়, অনেক হয়। বাংলাদেশে যেহেতু নানারকম বাঁধা নিষেধ আছে। আর্টিস্টরা বোঝে না হোয়াট টু ডু। মানে ছবি বিক্রির বাইরেও যে একটি জগত আছে, এটাই অনেকে বুঝতে পারেনা ম্যাক্সিমাম। ছবি বিক্রি নিয়ে এত টেনশনে থাকে সবাই, যে এটার বাইরে যে আর্ট আছে, সেটা বোঝে না। ইয়ংরা অন্যভাবে চিন্তা করছে – ওরা আরো অনেক কন্টেম্পোরারি চিন্তা-ভাবনার লোকজন। হচ্ছে কিংবা হচ্ছে না, বাট দে আর ট্রাইং। কিন্তু আগের যুগের যারা, তারা তো আগের যুগেরই। এ নিয়ে আর কী বলব? কোনো কমপ্লেইন ও নাই, আশাও নেই; যা যেভাবে আছে, আছে। ম্যাক্সিমামই হয়েছে কী যে স্থান-কালের মধ্যে পড়ে গেছে। একমাত্র সুলতান ছাড়া অন্য সবাইকে আমি দেখি স্থান-কালের মধ্যে পড়া, আর কিছুই না।

ই: ফি: বা, এটাকে একটা অসহায়ত্ব বলে ভাবা।

র: আ: হ্যাঁ, একটি কনফাইনমেন্টের জায়গায় নিয়ে গিয়েছে আরকি। মানে ফ্রী স্পিরিটটা আমি খুব কম দেখেছি। স্পিরিট তো অবশ্যই, কিন্তু খুবই স্থান-কাল নির্ভর আরকি। স্থান-কালের বাইরে যাবার যে ইচ্ছেটা, সেটা বাংলাদেশের খুব কম আর্টিস্টেরই আছে। টাইম এন্ড স্পেইসের বাইরে আরকি।

ই: ফি: না। মানে বিচ্ছিন্ন হলেও, একজন আর্টিস্টের কথা মনে পড়ল – মুনির।

র: আ: ও মুনির, হ্যাঁ, ওঁর কাজও ছিল। ওঁতো একেবারে অল্টারনেটিভদের অল্টারনেটিভ; মানে মেইন স্ট্রীমের সাথেই নেই।

ই: ফি: মানে ওঁ মরে যাবার পরে বোধ হয় ওঁকে প্রথম অ্যাকোমোডেট করা হয়েছে।

র: আ: এটাতো মেইনলি ডেপাট থেকে করা হয়েছে, আর কেউ তো করেনি। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে ছিল।

ই: ফি: কীরকম ভাবে?

র: আ: ছিল, কিছু কিছু মেটাফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডের বেশ কিছু রেফারেন্স ছিল। যে কারনে তাঁর লেখায় যেভাবে সমাজ এসেছে, লেখায় কিন্তু ওভাবে আসেনি ছবিতে।

ই: ফি: ছবিগুলো তো অনেক ব্যাক্তিগত।

র: আ: ব্যক্তিগত, বাট কোন সমাজ নেই। যেভাবে লেখাগুলো খুব সমাজ নির্ভর, কিন্তু ছবিগুলো কিন্তু সমাজহীন।

ই: ফি: ব্যক্তিগত মানে, ওটা বোধ হয় তাঁর নিজের একটি স্পেইস ছিল। নিজের সাথে কথা বলার স্পেইস আরকি।

র: আ: হ্যাঁ, এবং এই জন্য ওটার দাম আলাদা। অরিজিন্যালিটি বেশি ওটার, আমার মতে।

ই: ফি: হুম, রাইট।

র: আ: মানে অন্য ইয়ে দিয়ে একটা কালচার তৈরি হয়েছে, তাই না? কালচার তৈরি করার চেষ্টাও ছিল। একটি বিরাট মিডল ক্লাস তৈরি হয়েছে জমিদার থেকে। ছবি দিয়ে কিন্তু কিছু হয়নি।

ই: ফি: না, ছবিগুলোকে আমরা আলোচোনার খাতায় তুলিও নাই। রবীন্দ্রনাথকে বোঝার জন্যে ছবিগুলোকে আমরা আলোচোনার খাতায় তুলি না, তুলি কি?

 

Coloured ink on paper by Rabindranath Tagore, about 1929-30, © Rabindra Bhavana
Coloured ink on paper by Rabindranath Tagore, about 1929-30, © Rabindra Bhavana

র: আ: না। কিন্তু ওগুলো আমাদের কালচারে রবীন্দ্রনাথের একটি মেজর কন্ট্রিবিউশন। ওগুলোকে কালচারেই নেয়নি। যেহেতু ওগুলো মিডল ক্লাসের সেন্সেশন বা কগ্নিশন যেটাই বলেন, ওটার বাইরে। ওরা চুপচাপ চেপে গেছে। কারণ ওটাকে তো ভক্তি করতে পারবে না।

ই: ফি: না, ওটাতো আপনার ভাবনাকে উস্কে দেবে।

র: আ: না, ওটাকে নিয়ে ভক্তি করতে পারবে নাতো। কারণ, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মূলত ভক্তি করা হয়ে থাকে। যে জায়গাগুলো ভক্তি করতে পারবে না, তা করে না। ভালো জিনিস বোঝে না, এই আরকি।

ই: ফি: হুম, ওগুলো সাইড প্রোজেক্ট।

র: আ: হ্যাঁ, মানে জোড় গলায় কেউ বলবে না। খুবই এলিটিস্ট একটি ভঙ্গিতে বলবে যে হ্যাঁ, উনি ছবি এঁকেছিলেন। যেহেতু ইউরোপে এটা পছন্দ করেনি, সেহেতু এরা ভেবেছে যে ওগুলো হয়নি।

 

ই: ফি: আপনি বইটা বাংলায় করলেন না কেন? বা বইটির একটি বাংলা ভার্সন রাখলেন না কেন?

র: আ: কারণ ছবির তো ল্যাংগুয়েজ নেই। আর বাংলা ক’জন বুঝবে? ইংলিশটা বেশি বুঝবে, সহজ। কারণ চাইনিজরা ইংরেজি শেখে, জাপানিজরাও শেখে, বাঙ্গালিরা শেখে, সবাই ইংলিশ শেখে। কিন্তু পৃথিবীতে কয়জন লোক আগ্রহ করে বাংলা শেখে? ফলে ইংরেজিতে করেছি। আর ছবিতো আমি কোনো ভাষায় আঁকিনি। বাংলায়ও আঁকতে পারিনি, ইংরেজিতেও আঁকতে পারিনি। বা ফারসিতেও ছবি আঁকতে পারিনি। হিহিহিহিহিহহি… ভাষা নিয়ে আমার কোনো ইমোশন নেই, বুঝেছেন? আমার মতে যে ভাষায় বেশি লোক বুঝবে, সে ভাষাটাই বলব। আবার কর্মক্ষেত্রে সবাই, এই দেশেও ঐ দেশেও। ফলে, এমন একটি ভাষা ব্যাবহার করতে হয়েছে যেটি দু’পক্ষই বুঝবে। ভাষা নিয়ে কোনো ইমোশন নেই কারণ ভাষা চেইঞ্জ হয়; আর ভাষা আসলে ভাষা কিনা সেটাই তো বোঝা যাচ্ছেনা। এটাতে মায়া দিয়ে কী লাভ?

ই: ফি: হাহাহাহাহা… ভাষাই তো একটি ভাসা ভাসা বিষয়। ভাসা ভাসা জেসচার আরকি।

বইটি নিয়ে রীডার রেস্পন্স নিয়ে আপনার এক্সপেরিয়েন্স কেমন?

র: আ: খুব ভাল। যারা পেয়েছে তাঁরা মানে টাচড হয়েছে, কোনো না কোনো ভাবে। অনেকে অনেক মুভড হয়েছেন।

ই: ফি: সবচেয়ে ফ্রিকুয়েন্ট রেস্পন্স কী পেয়েছেন? মানে স্ট্যাটিস্টিক্সের পয়েন্ট-অব-ভিউ থেকে যদি বলি, ফ্রিকুয়েন্ট রিমার্ক কোনটি?

র: আ: সাবস্ট্যানশিয়াল, এটাই সবচেয়ে ফ্রিকুয়েন্টলি বলেছে। আবার এমনও বলেছে যে এতগুলো ছবি আঁকা হয়েছে! মানে এগুলো কথা; আনইউজ্যুয়াল যে একজন আর্টিস্টের এতো কাজ! মানে এগুলো বিষয় উঠে এসেছে। আর লেভেল তো ভালই বলেছে।

ই: ফি: আপনার ছবির টাইটেলগুলো এরকম টোয়াইলাইট ধাঁচের কেন? মানে হেঁয়ালিটা আপনি পছন্দ করেন, নাকি হেঁয়ালিটাই আপনার ভাষা?

র: আ: হেঁয়ালিটা ভাষা, কারণ আমাদের ভাষাটি হেঁয়ালি, এজন্য। আমরা যে নর্মাল ভাষা ব্যাবহার করি, সেটাই হেঁয়ালি। বরঞ্চ বললে পারেন আমার ভাষাটাই ঠিক।

ই: ফি: হাহাহাহাহাআহাহাহাহাহাহা… আপনি যাতা রনি ভাই।

র: আ: আসলেই তাই।

tepa putul by tusherzahid
tepa putul by tusherzahid

ই: ফি: বাংলা ভাষার শুরুটা হেঁয়ালি ভাষা দিয়েই।

র: আ: ভাষা কেন তৈরি হয় আসলে?

ই: ফি: কেন?

র: আ: এটাতো ঐ সাইন্সের মডিউল। বললাম না, সারভাইভাল ট্রুথ, আর কিছু না। এটার অত দাম নেই। কিন্তু ভাষার মধ্যে শক্তি থাকে। মানে এনার্জি স্টোরড থাকে।

ই: ফি: ভাষাই তো রাজনীতি।

র: আ: হুম, ভাষাই সব। কিন্তু এটাকেই আল্টিমেট বলা যাবে না। এটাকে যারা পূজা করবে, তারা ধরা খাবে। এটি খুব পাওয়ারফুল একটি ইন্সট্রুমেন্ট।

ই: ফি: নো ডাউট।

র: আ: ভাষাই তো জগত আসলে, তাই না? মানে আমি বুঝলাম জগত হলো – এটাই তো ল্যাংগুয়েজ। তাছাড়া তো হবে না।

ই: ফি: যা নাই ভান্ডে, তা নাই বিশ্বব্রম্মাণ্ডে।

র: আ: মানে কনশাসনেস ইস ম্যানিফেস্টেড বাই ল্যাংগুয়েজ, এভাবে বলা যায়।

ই: ফি: রনি ভাই এখানে স্টপ দেই তাহলে। অনেক ধন্যবাদ।

র: আ: হ্যাঁ, শিওর।

holy+cow
Ronni Ahmmed, Psychedelic Cow Meets His Non-psychedelic Owner, acrylic and garment accessories on canvas, 145x245cm, 2011

                 শ্রুতিলিখন: মাহফুজ রহমান

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s